আজকাল আমরা অনেক বিষয়েই খোলামেলা আলোচনা করি — মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, সম্পর্কের সমস্যা, এমনকি যৌনজীবন নিয়েও মোটামুটি কথা বলি। কিন্তু একটি বিষয় এখনও অনেকের মুখে তালা এনে দেয় বা আলোচনার বিষয় পরিবর্তন করিয়ে দেয় — সেটা হলো স্ব-তৃপ্তি বা হস্তমৈথুন। নিজের শরীরকে একা একা, নিজের জন্য উপভোগ করার বিষয়টি। এত স্বাভাবিক একটি বিষয় এখনও কেন এত লজ্জা আর গোপনীয়তার বোঝা বয়ে বেড়ায়?
লজ্জায় ভরা ইতিহাস — আর ধীরে ধীরে মুক্তি
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হস্তমৈথুনকে নৈতিকভাবে ভুল, শারীরিকভাবে ক্ষতিকর এবং দুর্বল চরিত্রের নিদর্শন হিসেবে দেখা হয়েছে। ১৮০০ শতকের ডাক্তাররা তাদের সমস্ত কর্তৃত্ব দিয়ে এর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। ধর্মগুলো এটাকে নিন্দা করেছে। অভিভাবকরা এ নিয়ে চুপ থেকেছেন — অথবা সন্তানদের লজ্জিত করেছেন। আমাদের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ভারী এবং পুরনো। যদিও গবেষণা দীর্ঘদিন ধরেই দেখিয়েছে যে স্ব-তৃপ্তি স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যকর, তবুও লজ্জাটা আমাদের অনেকের মধ্যেই গভীরভাবে বসে আছে। মনোবিজ্ঞানী ব্রেনে ব্রাউন, যিনি লজ্জা নিয়ে গভীর গবেষণা করেছেন, তিনি বলেছেন যে লজ্জা নীরবতায় বেড়ে ওঠে। ঠিক এই কারণেই এই বিষয়ে কথা বলা এত জরুরি — কারণ চুপচাপ থাকা আমাদের খুব কমই উপকার করে।
গবেষণা আসলে কী বলে
গবেষণা দেখায় যে পুরুষ এবং নারী উভয়ের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই স্ব-তৃপ্তি অনুশীলন করেন — বয়স, সম্পর্কের অবস্থা এবং জীবনযাত্রার ধরন নির্বিশেষে। ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা (হার্বেনিক এবং অন্যান্য, ২০১০) দেখিয়েছে যে হস্তমৈথুন সব বয়সের গ্রুপে ব্যাপকভাবে প্রচলিত এবং এটি খারাপ যৌনজীবন বা অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের লক্ষণ নয়। উল্টে, অনেকেই জানিয়েছেন যে তারা তাদের নিজেদের চাহিদা আরও ভালো করে জানেন এবং সঙ্গীর সাথে আরও খোলামেলা কথা বলতে পারেন, ঠিক কারণ তারা নিজেদের অন্বেষণে সময় দিয়েছেন। স্ব-তৃপ্তি এন্ডরফিন এবং অক্সিটোসিন নিঃসরণ করতে পারে, মানসিক চাপ কমাতে পারে এবং ভালো ঘুমে সাহায্য করতে পারে। এটা অন্যদের সাথে ঘনিষ্ঠতার বিকল্প নয় — এটা নিজের সাথে ঘনিষ্ঠতার একটি রূপ।
আত্মপ্রেম শুরু হয় নিজেকে জানা থেকে
আমরা প্রায়ই বলি যে সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি হলো আত্মপ্রেম। কিন্তু আত্মপ্রেম শুধু সন্ধ্যায় নিজের যত্ন নেওয়া বা মুখে মাস্ক লাগানো নয়। এটা নিজের শরীর, মন এবং চাহিদাকে জানা এবং গ্রহণ করা। যৌনতা এবং আনন্দ আমাদের মানবিক অভিজ্ঞতার একটি প্রাকৃতিক অংশ। যখন আমরা নিজেদের সাথে এই বিষয়ে সৎ এবং করুণাময় হই, তখন আমরা অন্যদের সাথেও সেভাবে থাকতে পারি।
মনে রাখবেন, আপনার ব্যক্তিগত AI গাইড AIA সবসময় এখানে আছে আ
AIA knows these theories and can help you understand them in your own situation.
Open AIA →